4
Jul

৭০ হাজার টাকায় মালয়েশিয়া ট্যুর: বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া ভ্রমণ খরচ এবং সম্পূর্ণ গাইড
কুয়ালালামপুরের সেই জাদুকরী টুইন টাওয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে একটা চমৎকার সেলফি তোলা কিংবা লংকাউই দ্বীপে নীল সমুদ্রের ওপর দিয়ে ভেসে বেড়ানো—মালয়েশিয়া ভ্রমণের এই ইচ্ছেটা প্রতিটি ভ্রমণপিপাসু বাংলাদেশির মনেই থাকে। কিন্তু অনেকেই ভাবেন, দেশের বাইরে ঘুরতে যাওয়া মানেই হয়তো লাখ টাকার ধাক্কা। আসলে কিন্তু তা নয়। সঠিক পরিকল্পনা আর একটু বুদ্ধি খাটিয়ে যদি হিসাব করতে পারেন, তবে আপনার ভাবনার চেয়েও অনেক কম খরচে মালয়েশিয়া ঘুরে আসা সম্ভব। আজ কোনো কাল্পনিক বা মনগড়া হিসাব নয়, একদম বর্তমান এয়ারলাইন্স ভাড়া, hotel রেট এবং আনুষঙ্গিক খরচের বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে সম্পূর্ণ হিসাবটা ধাপে ধাপে দেখে নেওয়া যাক।
ভ্রমণের শুরুতেই যে জিনিসটা আপনার লাগবে, তা হলো মালয়েশিয়ার ট্যুরিস্ট ভিসা বা ই-ভিসা। বাংলাদেশিদের জন্য এই প্রসেসটা এখন বেশ সহজ। আপনি নিজে অনলাইনে কিংবা বিশ্বস্ত কোনো এজেন্সির মাধ্যমে করালে সরকারি ফি ও প্রসেসিং চার্জ মিলিয়ে সাধারণত সাড়ে ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকার মতো খরচ হবে। এর জন্য খুব জটিল কোনো নথিপত্রের প্রয়োজন হয় না, শুধু পাসপোর্টের পাশাপাশি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জনপ্রতি ন্যূনতম ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা ব্যালেন্স দেখালেই চলে।
ভিসার পর আসে ট্যুর বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ, যা হলো বিমান ভাড়া। ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর রুটে সরাসরি এবং কানেক্টিং বেশ কিছু এয়ারলাইন্স নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে। বিমানের টিকিট কাটার ক্ষেত্রে একটা গোল্ডেন রুল মনে রাখবেন, যত আগে কাটবেন, তত কমে পাবেন। আপনি যদি যাত্রার অন্তত এক থেকে দুই মাস আগে টিকিট ট্র্যাকিং করেন, তবে যাওয়া-আসা বা রিটার্ন এয়ার টিকিট ৩৫ থেকে ৪২ হাজার টাকার মধ্যে পেয়ে যেতে পারেন। তবে আপনি যদি একদম শেষ মুহূর্তে বুকিং করেন বা পিক সিজনে যান, তখন এই ভাড়া ৫০ হাজার পার হয়ে যেতে পারে। তাই বিমানের টিকিটটাই আগেভাগে কনফার্ম করে ফেলা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
মালয়েশিয়ায় ল্যান্ড করার পর আপনার প্রথম প্রয়োজন হবে থাকার জায়গা বা হোটেল। কুয়ালালামপুরের বুকিত বিন্তাং বা কেএলসিসি হচ্ছে পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় এলাকা, কারণ এখান থেকে যাতায়াত ও কেনাকাটা করা খুব সহজ। সেখানে বেশ চমৎকার থ্রি-স্টার মানের হোটেল রুম পেয়ে যাবেন প্রতি রাতের জন্য সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। যদি আপনারা দুজন একসাথে ভ্রমণ করেন, তবে এই খরচটা অর্ধেক হয়ে যাচ্ছে, অর্থাৎ পার পারসন প্রতি রাতে পড়ছে মাত্র ২ হাজার টাকার মতো। চার রাতের জন্য একজনের হোটেল খরচ দাঁড়াবে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা।
এবার আসা যাক খাওয়া-দাওয়া ও দৈনন্দিন খরচে। মালয়েশিয়ায় আমাদের দেশি স্বাদের কাছাকাছি এবং হালাল খাবার খুব সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। বিশেষ করে ওখানকার ‘মামাক শপ’ বা লোকাল রেস্তোরাঁগুলোতে নাসি লেমাক, মি গোরেং বা রতি কানাই দিয়ে একেক বেলা পেট পুরে খাওয়া যায় মাত্র ১২ থেকে ১৫ রিঙ্গিতে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকার মতো। একটু ভালো শপিং মলের ফুড কোর্টে খেলে ১ হাজার টাকার মতো লাগতে পারে। দিনে ২ হাজার টাকা করে হিসাব করলেও চার দিনে খাবারের পেছনে আপনার ৮ হাজার টাকার মতো খরচ হবে।
সবশেষে আসে লোকাল যাতায়াত আর দর্শনীয় স্থান ঘোরার খরচ কুয়ালালামপুরের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বা ট্রেন সিস্টেমটা পৃথিবীর অন্যতম সেরা। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বাসে করে খুব কম খরচে কেএল সেন্ট্রাল চলে আসা যায়। আর শহরের ভেতরে ট্যাক্সি ড্রাইভারদের সাথে দরদাম করার ঝামেলা এড়াতে ফোনে গ্র্যাব অ্যাপটি নামিয়ে নিন। আমাদের দেশের উবার বা পাঠাও-এর মতোই ওখানে গ্র্যাব ভীষণ পপুলার এবং সস্তা। ট্রেনে এবং গ্র্যাবে মিলিয়ে প্রতিদিন ১ হাজার টাকা করে ৪ দিনে যাতায়াত বাবদ ৪ হাজার টাকা বাজেট রাখলেই চলে। আর বাতু কেভস বা মারদেকা স্কয়ার ঘুরে দেখতে কোনো প্রবেশ ফি লাগে না। তবে গেন্টিং হাইল্যান্ডস যেতে চাইলে ক্যাবল কার রাইড এবং এন্ট্রি ফি বাবদ আরও ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা যোগ করে নিন।
তাহলে পুরো হিসাবটা যদি একসাথে মেলানো যায়, তবে দাঁড়াচ্ছেটা কী? ভিসা ৬ হাজার, বিমান টিকিট ৪০ হাজার, চার রাতের হোটেল শেয়ারিং বেসিসে ৮ হাজার, খাওয়া-দাওয়া ৮ হাজার এবং যাতায়াত ও এন্ট্রি ফি মিলিয়ে আরও ৮ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার টাকার একটা বাজেট হলে আপনি নিজে নিজেই খুব চমৎকারভাবে চার রাত পাঁচ দিনের একটা কমপ্লিট মালয়েশিয়া ট্যুর শেষ করে আসতে পারবেন।

তবে নিজে নিজে বিমানের টিকিট ট্র্যাকিং করা, ভালো হোটেল খুঁজে বের করা কিংবা ভাষা ও যাতায়াতের এই পুরো ঝক্কি-ঝামেলা সামলানো অনেকের জন্যই বেশ কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ। কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝে এই বাড়তি চাপটুকু যদি আপনার ভ্রমণের আনন্দটাই মাটি করে দেয়? ঠিক এই জায়গাতেই আপনার সমস্ত চিন্তার সহজ ও প্রিমিয়াম সমাধান নিয়ে পাশে আছে নড়িয়া হলিডেজ।
আমরা বিশ্বাস করি, আপনার প্রতিটি ট্যুর হওয়া উচিত একদম দুশ্চিন্তামুক্ত এবং আরামদায়ক। আপনার মালয়েশিয়া ভ্রমণের স্বপ্নকে বাজেটের মধ্যে এবং সবচেয়ে চমৎকার উপায়ে সত্যি করতে আমরা নিয়ে এসেছি বিশেষ কুয়ালালামপুর ট্যুর প্যাকেজ। আমাদের এই প্যাকেজে আপনি পাচ্ছেন ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর যাওয়া-আসার এয়ার টিকিট, শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে প্রিমিয়াম মানের হোটেলে থাকার ব্যবস্থা, প্রতিদিনের সুস্বাদু সকালের নাস্তা এবং এয়ারপোর্ট থেকে হোটেল আনা-নেওয়াসহ পুরো শহর ঘোরার জন্য চমৎকার যাতায়াত সুবিধা।
কোনো লুকানো চার্জ বা শেষ মুহূর্তের বুকিং জটিলতা ছাড়াই আপনি পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারবেন স্বপ্নের মালয়েশিয়ায়। তাহলে আর দেরি কেন? আপনার সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া ভ্রমণের পরিকল্পনাটি আজই চূড়ান্ত করতে ভিজিট করুন আমাদের নড়িয়া হলিডেজ এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট। আর আমাদের নির্দিষ্ট এই প্যাকেজটির বর্তমান অফার মূল্য, বিস্তারিত তথ্য ও বুকিং প্রক্রিয়া জানতে সরাসরি দেখে নিন আমাদের মালয়েশিয়া ট্যুর প্যাকেজ পেজটি। আপনার ব্যাগ গুছিয়ে নিন, বাকি সব দায়িত্ব আমাদের।
কোনো লুকানো চার্জ বা শেষ মুহূর্তের বুকিং জটিলতা ছাড়াই আপনি পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারবেন স্বপ্নের মালয়েশিয়ায়। তাহলে আর দেরি কেন? আপনার সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া ভ্রমণের পরিকল্পনাটি আজই চূড়ান্ত করতে ভিজিট করুন আমাদের
Comments
You must be logged in to leave a comment.
Sign In to leave a comment